Protozoa: Reproduction and Parasitism

RANDOM THOUGHTS WITH YUSUF
0

 

                 প্রোটোজোয়া - জনন এবং পরজীবিতা


বিষয়বস্তু: Reproduction and Parasitism in Protozoa

প্রোটোজোয়ারা এককোষী হওয়া সত্ত্বেও এদের জনন প্রক্রিয়া অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় এবং অনেক প্রোটোজোয়া মানুষসহ বিভিন্ন প্রাণীর দেহে পরজীবী হিসেবে বাস করে মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে।

১. প্রোটোজোয়ার জনন (Reproduction)

প্রোটোজোয়ায় প্রধানত দুই পদ্ধতিতে জনন সম্পন্ন হয়: অযৌন জনন এবং যৌন জনন

ক. অযৌন জনন (Asexual Reproduction)

এটি সবচেয়ে সাধারণ পদ্ধতি যেখানে গ্যামেট তৈরি ছাড়াই বংশবৃদ্ধি ঘটে।

  • দ্বি-বিভাজন (Binary Fission): একটি কোষ সমান দুই ভাগে বিভক্ত হয়। এটি লম্বালম্বি (যেমন: Euglena) বা আড়াআড়ি (যেমন: Paramecium) হতে পারে।
  • বহু-বিভাজন (Multiple Fission): কোষের নিউক্লিয়াস অনেকবার বিভক্ত হয়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র কোষ তৈরি করে। ম্যালেরিয়া পরজীবীর সাইজন্ট পর্যায়ে এটি দেখা যায় (সাইজোগনি)।
  • কোরকোদগম (Budding): মাতৃকোষের একপাশে ছোট মুকুল বা কুঁড়ি তৈরি হয় যা পরে আলাদা হয়ে নতুন জীবে পরিণত হয় (যেমন: Vorticella)।

খ. যৌন জনন (Sexual Reproduction)

জেনেটিক বৈচিত্র্য আনার জন্য প্রোটোজোয়ারা যৌন জনন পদ্ধতি ব্যবহার করে।

  • সিনগ্যামি (Syngamy): দুটি হ্যাপ্লয়েড গ্যামেটের পূর্ণ মিলন ঘটে জাইগোট তৈরি হয়।
  • সংযুক্তি বা কনজুগেশন (Conjugation): দুটি প্রাণী সাময়িকভাবে পাশাপাশি লেগে থেকে তাদের নিউক্লিয়ার উপাদানের আদান-প্রদান ঘটায় (যেমন: Paramecium)। এটি তাদের পুনর্যৌবন লাভে সাহায্য করে।


২. প্রোটোজোয়ার পরজীবিতা (Parasitism)

প্রোটোজোয়ারা যখন অন্য কোনো জীবের (পোষক) দেহের ভেতরে বা বাইরে বাস করে পুষ্টি সংগ্রহ করে এবং পোষকের ক্ষতি করে, তখন তাকে পরজীবিতা বলে।

পরজীবীর ধরণ:

  • অন্তঃপরজীবী (Endoparasite): পোষক দেহের ভেতরে বাস করে (যেমন: রক্তে ম্যালেরিয়া পরজীবী বা অন্ত্রে Entamoeba)।

  • বহিঃপরজীবী (Ectoparasite): পোষক দেহের বাইরে লেগে থাকে (যেমন: মাছের গায়ে থাকা কিছু সিলিপ্রোটোজোয়া)।

প্রধান পরজীবী প্রোটোজোয়া ও সৃষ্ট রোগ:

  1.  Entamoeba histolytica: এটি মানুষের অন্ত্রে বাস করে এবং অ্যামিবিক আমাশয় সৃষ্টি করে।

  2. Plasmodium vivax: এটি রক্তকণিকায় বাস করে এবং ম্যালেরিয়া জ্বর সৃষ্টি করে।

  3. Leishmania donovani: এটি মানুষের যকৃৎ ও প্লীহায় বাস করে এবং কালাজ্বর সৃষ্টি করে। এটি বেলেমাছির (Sandfly) মাধ্যমে ছড়ায়।

  4. Giardia lamblia: এটি অন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায় এবং ডায়রিয়া বা জিয়ারডিয়াসিস সৃষ্টি করে।


৩. পরজীবী অভিযোজন (Parasitic Adaptation)

পরজীবী হিসেবে টিকে থাকার জন্য প্রোটোজোয়ারা কিছু বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে:

  • প্রতিরক্ষামূলক আবরণ: হোস্টের পাচক রস থেকে বাঁচার জন্য এরা নিজেদের চারপাশে শক্ত 'সিস্ট' (Cyst) তৈরি করে।

  • দ্রুত বংশবৃদ্ধি: বহু-বিভাজন প্রক্রিয়ায় এরা খুব দ্রুত সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে।

  • অঙ্গহানি: চলন অঙ্গ বা জটিল খাদ্য গ্রহণ অঙ্গের প্রয়োজনীয়তা না থাকায় সেগুলো অনেক সময় অনুপস্থিত থাকে।

 

প্রোটোজোয়া - জনন ও পরজীবিতার বিস্তারিত বিশ্লেষণ

১. প্রোটোজোয়ার জনন: একটি জটিল প্রক্রিয়া

প্রোটোজোয়ায় জনন কেবল সংখ্যাবৃদ্ধি নয়, বরং প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকা এবং জিনগত পুনর্গঠনের একটি মাধ্যম।

ক. বিস্তারিত অযৌন জনন (Detailed Asexual Reproduction)

  • অনুদৈর্ঘ্য দ্বি-বিভাজন (Longitudinal Binary Fission): কোষটি লম্বালম্বিভাবে বিভক্ত হয়। যেমন: Euglena। এখানে প্রথমে ফ্ল্যাজেলা এবং নিউক্লিয়াস বিভক্ত হয়, তারপর পুরো দেহটি লম্বালম্বি দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়।
  • প্রস্থ দ্বি-বিভাজন (Transverse Binary Fission): কোষটি আড়াআড়িভাবে বিভক্ত হয়। যেমন: Paramecium। এতে ম্যাক্রোনিউক্লিয়াসটি অ্যামাইটোসিস প্রক্রিয়ায় এবং মাইক্রোনিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়।
  • সাইজোগনি (Schizogony): এটি এক ধরণের বহু-বিভাজন যা ম্যালেরিয়া পরজীবীর যকৃৎ বা লোহিত রক্তকণিকায় ঘটে। এতে একটি মাতৃকোষ (Schizont) থেকে অসংখ্য মেরোজোয়েট (Merozoite) তৈরি হয়।

খ. বিস্তারিত যৌন জনন (Detailed Sexual Reproduction)

  • অটোগ্যামি (Autogamy): একই প্রাণীর ভেতর দুটি হ্যাপ্লয়েড নিউক্লিয়াসের মিলন। এটি মূলত এক ধরণের 'Self-fertilization' যা জেনেটিক বিশুদ্ধতা রক্ষা করে।
  • কনজুগেশন (Conjugation): এটি Paramecium-এর একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া।দুটি প্যারামিশিয়াম (Conjugants) কাছাকাছি আসে এবং পেলিকল সংযুক্ত হয়।
    1. বড় নিউক্লিয়াসটি (Macronucleus) অদৃশ্য হয়ে যায়।

    2. ছোট নিউক্লিয়াসটি (Micronucleus) মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে ৪টি হ্যাপ্লয়েড নিউক্লিয়াস তৈরি করে, যার ৩টি নষ্ট হয়ে যায়।

    3. অবশিষ্ট নিউক্লিয়াসটি বিভক্ত হয়ে একটি স্থির এবং একটি সচল নিউক্লিয়াস তৈরি করে। সচল নিউক্লিয়াসটি অন্য প্যারামিশিয়ামে গিয়ে মিলন সম্পন্ন করে।

    • তাৎপর্য: এটি প্রাণীর হারানো জীবনীশক্তি ফিরিয়ে আনে (Rejuvenation)।


২. প্রোটোজোয়ার পরজীবিতা: রোগ ও জীবনচক্র

পরজীবী প্রোটোজোয়ারা তাদের জীবনচক্র সম্পন্ন করার জন্য এক বা একাধিক পোষকের ওপর নির্ভর করে।

ক. ম্যালেরিয়া পরজীবী (Plasmodium) - জীবনচক্রের ধাপসমূহ

ম্যালেরিয়া পরজীবী তার জীবনচক্র সম্পন্ন করতে দুটি পোষক ব্যবহার করে: মানুষ (প্রধান পোষক) এবং স্ত্রী অ্যানোফেলিস মশা (বাহক)।

  • ইনোোকুলেশন: মশা কামড় দিলে স্পোরোজোয়েট (Sporozoite) মানুষের রক্তে প্রবেশ করে।

  • হেপাটিক সাইজোগনি: যকৃৎ কোষে আক্রমণ করে সংখ্যাবৃদ্ধি করে।

  • এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি: লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস করে, যার ফলে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে।

  • গ্যামেটোগনি: রক্তে গ্যামেটোসাইট তৈরি হয় যা মশার দেহে গিয়ে যৌন জনন সম্পন্ন করে।

খ. কালাজ্বর পরজীবী (Leishmania donovani)

এটি মানুষের রেটিকুলো-এন্ডোথেলিয়াল সিস্টেম (যকৃৎ, প্লীহা, অস্থিমজ্জা) আক্রমণ করে।

  • বাহক: বেলেমাছি (Sandfly)।
  • লক্ষণ: দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া এবং গায়ের চামড়া কালো হয়ে যাওয়া।

গ. আমাশয় পরজীবী (Entamoeba histolytica)

এটি মানুষের বৃহদন্ত্রের মিউকোসা স্তরে বাস করে। এদের জীবনচক্রে 'সিস্ট' (Cyst) দশা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরা টিস্যু ধ্বংসকারী এনজাইম (Histolysin) ক্ষরণ করে অন্ত্রে ক্ষত সৃষ্টি করে।


৩. পরজীবী প্রোটোজোয়ার বিবর্তনীয় গুরুত্ব

পরজীবীরা তাদের হোস্টের সাথে সহ-বিবর্তিত (Co-evolved) হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পরজীবী তার হোস্টকে পুরোপুরি মেরে ফেলে না, বরং দীর্ঘ সময় ধরে বেঁচে থাকার জন্য হোস্টের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ফাঁকি দেওয়ার কৌশল শেখে।



Brainstorming:

  •  "কেন Paramecium-এর কনজুগেশনকে প্রকৃত জনন না বলে পুনর্যৌবন লাভ বলা হয়?" 

Post a Comment

0 Comments

স্বাগতম! 'Learning Biology For Life' কমিউনিটিতে।


আমাদের এই লেকচারটি নিয়ে আপনার মূল্যবান মতামত বা প্রশ্ন নিচে শেয়ার করুন।

🎓 শিক্ষার্থীদের জন্য: কোনো অংশ বুঝতে সমস্যা হলে নির্দ্বিধায় প্রশ্ন করুন।

🔬 গবেষক ও শিক্ষকদের জন্য: কোনো তথ্যগত সংযোজন বা কোলাবরেশনের প্রস্তাব থাকলে আমাদের জানান।


অনুগ্রহ করে গঠনমূলক আলোচনা বজায় রাখুন এবং স্প্যামিং থেকে বিরত থাকুন।

Post a Comment (0)
  • Newer

    Protozoa: Reproduction and Parasitism

3/related/default